মঙ্গলবার , ১৩ অক্টোবর ২০২৬
Tuesday , 13 October 2026
২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

শোকবার্তা :

প্রকাশিত: ২০:০৪, ১২ অক্টোবর ২০২৬

আবদুল মুন্তাকীম চৌধুরীর মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার শোক

আবদুল মুন্তাকীম চৌধুরীর মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার শোক

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর এবং ভাষা সংগ্রামী, মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, গণপরিষদ সদস্য, সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য, সংসদ সদস্য এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত আবু তাহের আবদুল মুন্তাকীম চৌধুরী, যিনি ব্যারিস্টার আবদুল মুন্তাকীম চৌধুরী নামে সমধিক পরিচিত গত ৯ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মুন্তাকিম চৌধুরীর মৃত্যুতে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি।

ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হলেও আবদুল মুন্তাকীম চৌধুরী ১৯৬৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগদান করে রাজনীতিতে নবযাত্রার সূচনা করেন। ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পরিষদ-১২৪ এবং সিলেট-৫ (মৌলভীবাজার) আসন থেকে তিনি জাতীয় পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে মুক্তির সংগ্রামে নিবেদিত এই মানুষটি পাকবাহিনীর বর্বর আক্রমণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান এবং মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। গণপরিষদ সদস্য এবং সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য হিসেবে সদ্য স্বাধীন দেশের সংবিধান প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। 

১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিলেট-১৩ (কুলাউড়া-বড়লেখা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই বছরে বঙ্গবন্ধু তাঁকে জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেন। পরবর্তীতে দক্ষিণ কোরিয়া এবং তৎকালীন পূর্ব জার্মানিতেও বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রদূত হিসেবেও তিনি অসামান্য অবদান রাখেন, বিশেষ করে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক তৈরিতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। 

বৈচিত্র্যময় শিক্ষাজীবনে আবদুল মুন্তাকীম চৌধুরী শান্তি নিকেতন, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে ১৯৫৫ সালে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে বার-এট-ল ডিগ্রি অর্জন করে দেশে ফিরে আইন পেশায় যোগ দেন। ১৯৮৭-৯০ মেয়াদে তিনি বাংলাদেশের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য আইন বিষয়ক জার্নাল ঢাকা ল রিপোর্টস (ডিএলআর)-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা সিটি ল’ কলেজে খণ্ডকালীন শিক্ষকতাও করেছেন। বাংলাদেশে পোশাক খাতেরও তিনি ছিলেন অন্যতম উদ্যোক্তা। 
বাংলাদেশের ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাক্ষী আবদুল মুন্তাকীম চৌধুরী রাজনৈতিক, সাংবিধানিক ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। গভীর শোক ও দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, বরেণ্য এই আইনজীবী ও রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে জাতি হারালো একজন নিষ্কলুষ ব্যক্তিত্বকে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, দেশের জন্য তাঁর অবদান ও আত্মত্যাগ সকলের হৃদয়ে চিরজাগরুক থাকবে।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর। তিনি দুই কন্যা, জামাতা ও নাতিনাতনি সহ দেশ-বিদেশের অসংখ্য বন্ধু-স্বজন, সহকর্মী-সহযোদ্ধা ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার এবং শোকাহতদের প্রতি আমি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

আমি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। 

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
আঁধার কেটে ভোর হোক 
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়