বাংলাদেশ বিষয়ক বিতর্কিত অনুষ্ঠান পর্যালোচনার দাবিতে অক্সফোর্ড ইউনিয়নকে আইনি নোটিশ
যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সেফটি, হেলথ, এনভায়রনমেন্ট ও ফায়ার কনসালট্যান্ট সুশান্ত দাস গুপ্ত অক্সফোর্ড ইউনিয়নের আসন্ন অনুষ্ঠান “The Student-Led Uprising and the Future of Post-Revolutionary Bangladesh” পর্যালোচনা, স্থগিত অথবা পুনর্বিন্যাসের দাবিতে একটি আনুষ্ঠানিক "Letter Before Action" প্রেরণ করেছেন।
অক্সফোর্ড ইউনিয়নের সভাপতি, স্ট্যান্ডিং কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরিত চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন যে, ২০২৪ সালের বাংলাদেশে সংঘটিত রাজনৈতিক সহিংসতা, পুলিশ সদস্যদের নিহত হওয়া, রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হামলা, রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় আক্রমণ, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং পরবর্তী মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যথাযথ আলোচনা ছাড়াই ঘটনাগুলোকে একপাক্ষিকভাবে “Student-Led Uprising” এবং “Post-Revolutionary” রূপে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নয়। বরং একটি ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ঘটনাকে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্ল্যাটফর্মে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই, ঝুঁকি মূল্যায়ন, ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব এবং দায়িত্বশীল আয়োজন নিশ্চিত করার দাবি।
সুশান্ত দাস গুপ্ত বলেন, “আমি কোনো বক্তার মুখ বন্ধ করতে চাই না। আমি বিশ্বাস করি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। কিন্তু একইসঙ্গে একটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হলো এমন কোনো রাজনৈতিক বয়ানকে একপাক্ষিকভাবে বৈধতা না দেওয়া, যা সহিংসতা, রাজনৈতিক নিপীড়ন কিংবা বিভাজনের সঙ্গে জড়িত বিতর্ককে উপেক্ষা করে।”
চিঠিতে অনুষ্ঠানের কয়েকজন বক্তার অতীত বক্তব্য, রাজনৈতিক অবস্থান এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সম্পর্কিত প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি অক্সফোর্ড ইউনিয়নের কাছে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট করার আহ্বান জানানো হয়েছে: অনুষ্ঠানটি আয়োজনের আগে কোনো আনুষ্ঠানিক ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না; বক্তাদের প্রকাশ্য বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করা হয়েছে কি না; ২০২৪ সালের সহিংসতা, পুলিশ সদস্যদের মৃত্যু, রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হামলা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বিকল্প মতামত উপস্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে কি না; অনুষ্ঠানটিকে একপাক্ষিক উদযাপনমূলক আয়োজনের পরিবর্তে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বিতর্ক হিসেবে পুনর্গঠন করা হবে কি না; সহিংসতা বা রাজনৈতিক উগ্রতার গৌরবগাথা প্রচার রোধে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিষয়টি যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার আইন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সম্পর্কিত আইন, জনশৃঙ্খলা আইন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুশাসন নীতি এবং সংশ্লিষ্ট বিচারিক নজিরের আলোকে পর্যালোচনার দাবি রাখে।
সুশান্ত দাস গুপ্ত অক্সফোর্ড ইউনিয়নের নিকট জরুরি ভিত্তিতে লিখিত জবাব চেয়েছেন এবং প্রয়োজন হলে আইনগত ও নিয়ন্ত্রক পর্যায়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের অধিকার সংরক্ষণ করেছেন।





































