ইউএসএফ-এর দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যার লোমহর্ষক তথ্য ফাঁস
সাউথ ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটি (ইউএসএফ)-এর দুই মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির অন্তর্ধান ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই নৃশংস জোড়া খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে শক্ত প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে স্থানীয় পুলিশ।
খুনের আগে চ্যাটজিপিটির শরণাপন্ন ঘাতক
তদন্তে সবচেয়ে ভয়াবহ যে তথ্যটি উঠে এসেছে তা হলো হিশামের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট। নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন আগে অর্থাৎ ১৩ এপ্রিল হিশাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা 'চ্যাটজিপিটি'র কাছে জানতে চেয়েছিলেন, "কীভাবে একজন মানুষকে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া যায়।" এখানেই শেষ নয়, লিমন ও বৃষ্টির নিখোঁজ সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি আবারও অনুসন্ধান করেন, "নিখোঁজ বিপন্ন প্রাপ্তবয়স্ক (Missing Endangered Adult) বলতে কী বোঝায়?" যা থেকে স্পষ্ট হয় যে, এটি ছিল একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
সিসিটিভি ফুটেজ ও ফোনের অবস্থান
গত ১৬ এপ্রিল বিকেলে বৃষ্টিকে শেষবার ছাতা মাথায় দিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে দেখা যায়। ওইদিন বিকেলে লিমনের ফোনের অবস্থান ক্যাম্পাসে থাকলেও রাতে ফোনটির অবস্থান পাওয়া যায় কোর্টনি ক্যাম্পবেল কজওয়ে এবং ক্লিয়ারওয়াটার বিচের স্যান্ড কি পার্ক এলাকায়। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, একই সময়ে হিশামের হুন্দাই জেনেসিস গাড়িটিও ওই একই এলাকাগুলোতে চলাচল করছিল।
ফ্ল্যাটে আলামত মোছার মরিয়া চেষ্টা
তদন্তকারীরা হিশামের ফ্ল্যাটে অস্বাভাবিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার চিহ্ন লক্ষ্য করেন। লুমিনল পরীক্ষায় রান্নাঘর থেকে হিশামের শোবার ঘর পর্যন্ত রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। এমনকি ডোরড্যাশের মাধ্যমে ১৬ এপ্রিল রাতে লিজল ওয়াইপস ও ফিব্রিজের মতো পরিষ্কারক সামগ্রী কেনার রসিদও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তদন্তে আরও পাওয়া গেছে:
-
রক্তাক্ত পোশাক: ট্র্যাশ কম্প্যাক্টর থেকে লিমনের শার্ট, প্যান্ট এবং রক্তমাখা রুপালি ডাক্ট টেপ উদ্ধার করা হয়েছে।
-
ফরেনসিক প্রমাণ: হিশামের শোবার ঘরে রাসায়নিক পরীক্ষায় দুটি মানুষের শরীরের আকৃতির ছাপ পাওয়া গেছে।
-
গুম করার চেষ্টা: লিমনের ফ্ল্যাট থেকে নিখোঁজ হওয়া তোয়ালে, ফ্লোর ম্যাট এবং হাড়ি-পাতিল পরে ময়লার ভাগাড়ে পাওয়া যায়।
বয়ান পরিবর্তন ও গ্রেপ্তার
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হিশাম দাবি করেছিলেন যে, পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে তার হাত কেটেছে। তবে লিমনের ফোনের লোকেশন সংক্রান্ত তথ্য সামনে আসতেই তিনি স্বীকার করেন যে, লিমন ও বৃষ্টি তার গাড়িতেই ছিলেন। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, হিশাম অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় আলামত গোপনের চেষ্টা করেছিলেন। বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে।
তথ্যসূত্র: স্কাই নিউজ ও দ্য গার্ডিয়ান।





































