মঙ্গলবার , ১১ আগস্ট ২০২৬
Tuesday , 11 August 2026
২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ২০:৩১, ১০ আগস্ট ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা চাইলেন জেলেনস্কি

দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা চাইলেন জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ইউক্রেনকে আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ইউক্রেনে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার উত্তর কোরীয় ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। গত জুলাইয়ে এই সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের ভূখণ্ডে উত্তর কোরিয়ায় তৈরি কিছু ক্ষেপণাস্ত্রও পাওয়া গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার কাছ থেকে আধুনিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি নিয়ে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন জেলেনস্কি।

চলতি মাসে ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, উত্তর কোরিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট পশ্চিম রাশিয়ায় জনবল ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন শুরু করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ইউনিটে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ১২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ছয়টি লঞ্চার রয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মস্কোকে সহায়তা করতে উত্তর কোরিয়া আনুমানিক ১৪ হাজার সেনা পাঠিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়। এসব সেনার মধ্যে কয়েক হাজার নিহত বা আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ইউক্রেন ও বিভিন্ন স্বাধীন মূল্যায়ন অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে বিপুল পরিমাণ আর্টিলারি ও মর্টার গোলা সরবরাহ করেছে। পাশাপাশি পিয়ংইয়ং রাশিয়াকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দূরপাল্লার আর্টিলারি ও একাধিক রকেট নিক্ষেপ ব্যবস্থা সরবরাহ করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন এমন সব ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতা পেতে আগ্রহী, যেখানে তাদের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে তিনি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ড্রোনসহ অন্যান্য খাতেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। সম্ভাব্য চুক্তি এগিয়ে নিতে ইউক্রেনের কূটনীতিকরা সিউলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানান জেলেনস্কি।

ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ঘাটতি থাকায় রাশিয়া আরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে বলে দাবি কিয়েভের। এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়টের মতো উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও ইন্টারসেপ্টর ছাড়া এগুলো ভূপাতিত করা কঠিন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নথি অনুযায়ী, তুরস্কের কাছ থেকে ইউক্রেন যে অস্ত্রের প্যাকেজ কিনতে যাচ্ছে, তাতে ৭০টি এটিএসিএমএস স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের উৎস থেকে পাওয়া এসব অস্ত্র তুরস্কের মাধ্যমে পুনরায় বিক্রি করতে ওয়াশিংটনের অনুমোদন প্রয়োজন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এ ধরনের অনুমোদন দিতে তারা প্রস্তুত।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নোটিশ অনুযায়ী, এম৩৯ এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ইউক্রেনের কাছে ৪৭ হাজার আর্টিলারি গোলা, ১২টি এম২৭০ মাল্টিপল-লঞ্চ রকেট সিস্টেম এবং ২ হাজারের বেশি ক্লাস্টার বোমা বিক্রির পরিকল্পনাও রয়েছে তুরস্কের।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

আরও পরুন: