শুক্রবার , ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Friday , 25 September 2026
২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

ডেস্ক নিউজ

প্রকাশিত: ২২:৩৫, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ট্যাগ নয়, মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার সময় এসেছে

ট্যাগ নয়, মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার সময় এসেছে

অনেক আম পাতা — জাম পাতা মার্কা সংবাদের ভিড়ে আজকের একটি ভাইরাল সংবাদ, ছাত্রলীগের মিছিল থেকে এক কর্মীকে ধরে মব করা অবস্থায় সাধারন জনগণ প্রতিরোধ করে ছাড়িয়ে নেয় ছাত্রদল নেতার কাছ থেকে। 
তবে, একটি পত্রিকার অনলাইন ভার্সনের হেডলাইন দেখলাম, মিছিল থেকে ছাত্রলীগ কর্মীকে
আটক— পথচারী পরিচয়ে ছাড়িয়ে নিলেন যুবক। 
কি হেডলাইন !!! ছাড়িয়েছে সাধারন জনগন, কিন্তু বলছে বিশেষ একজন। 
মজার ব্যাপার হলো কিছুক্ষণ পর দেখি, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস এ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশের পেইজ থেকে ওই ভদ্রলোকের ফেইসবুক ডিটেইলস দিয়ে লিখেছে তাকে ধরতে হবে এবং তার প্রতিষ্ঠানের ডিটেইলস দিয়ে লিখেছে তা বন্ধ করতে হবে !!! ওনারা এখন সাধারন জনগনকেও আওয়ামীলীগ বানাতে চান। কয়েকদিন পর আপনাদের দলীয় পদধারী ছাড়া কাউকে পাশে পাবেন না তা কি জানেন। রাষ্টের চরম অবহলোয় হামে হাজার হাজার মায়ের শিশু মারা গেছে, ঐ সব শিশুর মায়েরা কথা বললেও আপনারা তাদের আওয়ামীলীগ বানাতে চান। রাস্তায় খেটে খাওয়া মানুষ কথা বললে তাদের দোসর বলে মব করেন, রিক্সওয়ালা মামা দ্রব্য মূল্য নিয়ে বা তাদের আয় নিয়ে কথা বললে, আপনাদের অনেকেই তাদের আওয়ামীলীগ বানাতে চেয়ে তাদের জীবিকা বন্ধ করতে চান। আচ্ছা আপনারা কি, টি.সি.বি বা ও.এম.এসের গাড়ী খেয়াল করেছেন ? সারা দেশে প্রতিদিন শিশু নিঁখোজ , হত্যা, ধর্ষন হচ্ছে কৈ কোন পত্রিকার হেড লাইন তো হতে দেখি না। আপনারা যখন বোয়িং নিয়ে মাতামাতি করছেন তখন মানুষ তেলের দাম নিয়ে নাকাল, ক্লান্ত। আপনারা যখন গুম দিবস পালন করছেন এসি রুমে বসে তখন হাজার হাজার মানুষ গুমের শিকার গত দু’বছরে। অথচ একজন মিডিয়ার কর্মীর জন্মদিনে তার স্বামী ফেইসবুকে কি লিখলেন তা ফটোকার্ড দেন!!! জঙ্গীরা দিনের বেলায় মাজার ভাংছে, মানুষকে ধরে মব করে মারছে, সনাতনীদের দেশছাড়া করছে, দেশের শিল্প - সংস্কৃতি বন্ধ করে দিচ্ছে, অথচ আপনি তাদের দৌহিদী জনতা নামে আখ্যায়িত করে বাহবা দিচ্ছেন। রাস্তার সাধারন জনগণ একজন ছেলে যে কিনা ছাত্রলীগ করে তাকে মবের হাত থেকে বাঁচিয়েছে বলে এখন তাদের আওয়ামীলীগ বলে ট্যাগ দিচ্ছেন। আপনারা কি বুঝতে পারেন না আপনাদের পাশে আর সাধারন মানুষ নাই ? এখনও সময় আছে যা করছেন তা থেকে বেড়িয়ে আসেন। আপনি যেমন সমাজের একটি অংশ তেমনি যে মানুষটি আওয়ামীলীগ বা অঙ্গ -সহযোগী সংগঠন করে তারাও সমাজের অংশ। আর মিথ্যা ট্যাগ দেওয়া বন্ধ করেন, অনুগ্রহ করে মানুষের আর ক্ষতি করবেন না।  কোনো ব্যক্তি কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক হতে পারেন, আবার সেই ব্যক্তিই অন্যায়ভাবে আক্রান্ত হওয়া আরেকজন মানুষকে রক্ষা করতেও পারেন। এই দুই পরিচয় পরস্পরবিরোধী নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় যেন মানুষকে আগে মানুষ হিসেবে দেখার পরিবর্তে একটি রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে বিচার করার প্রবণতা বাড়ছে। যে মানুষটি আজ একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আছেন, তিনিও এই সমাজের অংশ। যে মানুষটি কোনো দলের সঙ্গে নেই, তিনিও এই সমাজের অংশ। যে রিকশাচালক নিজের সংসার চালানোর জন্য রাস্তায় পরিশ্রম করছেন, তিনিও এই সমাজের অংশ। যে ছাত্র নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত, যে শ্রমিক ন্যায্য মজুরি চান, যে মা সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন—তারাও এই দেশের মানুষ। কেউ কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে একমত হলেই তার মৌলিক মানবিক অধিকার শেষ হয়ে যায় না।
তাই এখন সময় এসেছে মানুষকে রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে নয়, মানুষ হিসেবে দেখার। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। মতের বিরোধিতা করা যাবে, কিন্তু ভিন্নমতের মানুষের জীবিকা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা ধ্বংস করার অধিকার কারও নেই।  মিথ্যা বা অযাচাইকৃত ট্যাগ দেওয়া বন্ধ করুন। ভিন্নমতের মানুষকে শত্রু বানানো বন্ধ করুন। আর কোনো মানুষের ওপর অন্যায় হলে—সে যে দলেরই হোক—তার পাশে দাঁড়ানোর নৈতিক সাহসটুকু অন্তত রাখুন।
এম এ আর মুরাদ 
সাবেক সদস্য, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব, যুক্তরাজ্য। 
সংগঠক, ঢাকা মহনগর উত্তর আওয়ামী যুবলীগ।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়