সোমবার , ০১ ডিসেম্বর ২০২৫
Monday , 01 December 2025
০৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৭

ডেস্ক নিউজ

প্রকাশিত: ২২:০২, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

আন্তর্জাতিক ভার্চুয়াল সম্মেলন: ‘টার্নিং পয়েন্ট: বাংলাদেশ জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পর’

আন্তর্জাতিক ভার্চুয়াল সম্মেলন: ‘টার্নিং পয়েন্ট: বাংলাদেশ জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পর’

বুধবার (২৯ অক্টোবর)  নিউইয়র্ক সময় সকাল ৯টায় "টার্নিং পয়েন্ট: বাংলাদেশ জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পর" শীর্ষক দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ভার্চুয়াল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলন আয়োজন করে গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্নেন্স (কানাডা) এবং সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরাম (বেলজিয়াম)। সহ-আয়োজক হিসেবে অংশ নেয় নেভার এগেইন অ্যাসোসিয়েশন (পোল্যান্ড), ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরাম (যুক্তরাজ্য), রাইটস অ্যান্ড রিস্কস অ্যানালাইসিস গ্রুপ (ভারত), ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম ফর সেক্যুলার বাংলাদেশ (সুইজারল্যান্ড), 71@হার্ট (যুক্তরাজ্য), একাত্তরের প্রহরী (যুক্তরাষ্ট্র), সেন্টার ফর ইউএসএ-বাংলাদেশ রিলেশনস (যুক্তরাষ্ট্র) এবং সেন্টার ফর জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট (ক্যামেরুন)।

সম্মেলনে গত ১৫ মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সকল অংশীজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। একইসাথে, অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশে গণতন্ত্র, সুশাসন এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় (OHCHR) কর্তৃক জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালের গণআন্দোলন সম্পর্কিত মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে প্রকাশিত ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টের সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়। বক্তারা রিপোর্টটির সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণে ব্যর্থতা, পদ্ধতিগত অস্পষ্টতা, প্রেক্ষাপটের ভারসাম্যহীনতা, কঠোর বিশ্লেষণের অভাব এবং নিরপেক্ষতার ঘাটতির জন্য তীব্র সমালোচনা করেন।

সম্মেলনে বক্তাদের মতামতের ভিত্তিতে নিম্নলিখিত ঘোষণা গৃহীত হয়:

১. নাগরিক অধিকার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা:

নাগরিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অধিকারসহ মৌলিক স্বাধীনতার পূর্ণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়। সুবিচার নিশ্চিতে বিচার বিভাগকে অবশ্যই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও স্বাধীন হতে হবে।

 ২. মানবাধিকার লঙ্ঘনের জবাবদিহিতা:

হত্যা, আটক, নির্যাতন, নারী ও শিশু নির্যাতন, সংখ্যালঘু ও বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর সহিংসতার সকল অভিযোগকে ন্যায়সংগত ও স্বচ্ছভাবে তদন্ত করার আহ্বান জানানো হয়। প্রতিটি ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

 ৩. গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা:

গণমাধ্যম সেন্সরশিপ ও সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। অবিলম্বে ভয়ভীতি, কারাবাস ও সেন্সরশিপ বন্ধের দাবি জানিয়ে পূর্ণ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের সুরক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়।

৪. চরমপন্থা মোকাবিলা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা:

চরমপন্থার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ গ্রহণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন, মানবাধিকার এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়, যাতে বাংলাদেশ ও সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা যায়।

৫. অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন:

একটি নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবিলম্বে অন্তর্ভুক্তিমূলক, অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ জাতীয় নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়, যাতে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় এবং জনগণের গণতান্ত্রিক আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে বক্তৃতা করেন, রেভ. ড. রবার্ট বি. লান্সিয়া (সাবেক আইনপ্রণেতা, রোড আইল্যান্ড হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস, যুক্তরাষ্ট্র), উইলিয়াম স্লোন (আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবী ও সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞ, কানাডা), প্রফেসর বীনা সিক্রি (বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার, ভারত), পাওলো কাসাকা (প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক, সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরাম, বেলজিয়াম), ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন (কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর, ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরাম, যুক্তরাজ্য), শার্লট জ্যাকুমার্ট (সিনিয়র এডিটর, SRF, সুইজারল্যান্ড), অ্যালান রাইডস (ডিরেক্টর, ওয়েস্ট লন্ডন চেম্বার অফ কমার্স, যুক্তরাজ্য), সুহাস চাকমা (ডিরেক্টর, রাইটস অ্যান্ড রিস্কস অ্যানালাইসিস গ্রুপ, ভারত), নাতালিয়া সিনিয়েভা (প্রতিনিধি, নেভার এগেইন অ্যাসোসিয়েশন, পোল্যান্ড), শুন-ইচি ফুজিকি (ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ইন্টারন্যাশনাল ক্যারিয়ার সাপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন, জাপান), ড. চংসি আয়োহ জোসেফ (সভাপতি, সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস অ্যাডভোকেসি, ক্যামেরুন), প্রফেসর ড. রাফাল পাঙ্কোভস্কি (রোটারি পিস ফেলো, মাকেরেরে ইউনিভার্সিটি, উগান্ডা), পুষ্পিতা গুপ্তা (সভাপতি, সেক্যুলার বাংলাদেশ মুভমেন্ট, যুক্তরাজ্য), ড. নুরুন নবী (মুক্তিযোদ্ধা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ, যুক্তরাষ্ট্র), প্রফেসর ইঞ্জিনিয়ার ড. মো. আব্দুর রশিদ (অব., ম্যাসি ইউনিভার্সিটি, নিউজিল্যান্ড), প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ (অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র), ড. এস. এম. মাসুম বিল্লাহ (মানবাধিকার আইনজীবী ও ভিজিটিং প্রফেসর, ইউনিভার্সিটি অফ কোট দআজুর, ফ্রান্স), ড. মো. আবু নাসের (চেয়ারম্যান, কমিউনিকেশনস বিভাগ, ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র), ব্যারিস্টার তপস কান্তি বাউল (আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবী, জার্মানি), রহমান খলিলুর মামুন (সভাপতি, ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম ফর সেক্যুলার বাংলাদেশ, সুইজারল্যান্ড)।

সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত, সভাপতি, গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্নেন্স, কানাডা।

মিডিয়া পার্টনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গ্লোবাল বাংলা (যুক্তরাজ্য), ব্রিজবাংলা২৪ (যুক্তরাজ্য), নারেটিভা৩৬০ (যুক্তরাজ্য), এনআরবি নিউজ২৪ (যুক্তরাজ্য), আলফা টিভি (কানাডা), প্রবাস দর্পণ (যুক্তরাজ্য), দৃষ্টিকোণ৭১ (কানাডা), এবং বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক (যুক্তরাষ্ট্র)।

সম্মেলনের সঞ্চালনা করেন প্রিয়জিৎ দেবসরকার (ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক, যুক্তরাজ্য), ইঞ্জিনিয়ার রানা হাসান মাহমুদ (রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট, যুক্তরাষ্ট্র) এবং দেবদ্যুতি দাশগুপ্ত (যুদ্ধ ইতিহাসবিদ ও লেখক, ভারত)। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মো. গোলাম কিবরিয়া তালুকদার, নির্বাহী পরিচালক, গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্নেন্স, কানাডা।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়