বুধবার , ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Wednesday , 09 September 2026
২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

জাতীয়

প্রকাশিত: ১৮:৫৬, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষ, রায় যেকোনো দিন

আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষ, রায় যেকোনো দিন

আওয়ামী লীগের নেতা ও গাজীপুরের সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় চূড়ান্ত আপিল শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন আপিল বিভাগ। ফলে যেকোনো দিন এ মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ১৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের অবকাশ থাকায় অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে রায় ঘোষণা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা।

মুক্তিযোদ্ধা ও শ্রমিকনেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার গাজীপুর-২ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে একটি সমাবেশে প্রকাশ্যে গুলি করে তাঁকে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল রায় দেন। রায়ে বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি মারা যান। ২০০৫ সালের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল হাইকোর্টে যায়। একই সঙ্গে দণ্ডিত আসামিরাও হাইকোর্টে আপিল করেন।

২০১৬ সালের ১৫ জুন হাইকোর্টের রায়ে ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড ও দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল থাকে। সাতজনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন করা হয় এবং ১১ জনকে খালাস দেওয়া হয়।

হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা ছয় আসামি হলেন—নূরুল ইসলাম সরকার, নূরুল ইসলাম দীপু, মাহবুবুর রহমান মাহবুব, শহীদুল ইসলাম শিপু, হাফিজ ওরফে কানা হাফিজ এবং সোহাগ ওরফে সরু। এর মধ্যে শহীদুল ইসলাম শিপু ৪ জানুয়ারি কাশিমপুর কারাগারে মারা যান। টিপু ও নূরুল আমিনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও বহাল থাকে।

এ ছাড়া মো. আলী, সৈয়দ আহমেদ হোসেন মজনু, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনু, রতন মিয়া ওরফে বড় মিয়া রতন, জাহাঙ্গীর ওরফে ছোট জাহাঙ্গীর, আবু সালাম ওরফে সালাম এবং মশিউর রহমান ওরফে মনুর মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অন্যদিকে আমির হোসেন, জাহাঙ্গীর ওরফে বড় জাহাঙ্গীর, ফয়সাল, রনি মিয়া ওরফে রনি ফকির, খোকন, লোকমান ও দুলাল মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস দেওয়া হয়।

একই রায়ে মনির, রকিব উদ্দিন সরকার ওরফে পাপ্পু, আইয়ুব আলী ও জাহাঙ্গীরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে খালাস দেওয়া হয়। পরে দণ্ডিত আসামিরা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। সেই আপিলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এখন রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে মামলাটি।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়