শনিবার , ০৬ জুন ২০২৬
Saturday , 06 June 2026
২০২৬৭ ২০২৬৩ ২০২৬১

আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ১৩:৩৩, ৩ জুন ২০২৬

জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্কের প্রস্তাব

জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্কের প্রস্তাব

জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য রোধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের আমদানিপণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প নতুন করে চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) এ প্রস্তাব প্রকাশ করে। এতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিতে পারেনি, যা মার্কিন বাণিজ্যের জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মেক্সিকো, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, যুক্তরাজ্য, কম্বোডিয়াসহ ১৫টি অর্থনীতির পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। এছাড়া তদন্তের আওতায় থাকা আরও ৪৫টি দেশের পণ্যে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।

ইউএসটিআরের ভাষ্য, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেকশন ৩০১’ তদন্তের অংশ, যার মাধ্যমে অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে জরুরি ক্ষমতার আওতায় চালু থাকা শুল্কব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, “জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি বন্ধে ব্যর্থতা মার্কিন শ্রমিকদের বৈশ্বিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়।”

তবে সব পণ্য এই শুল্কের আওতায় আসবে না। ইউএসটিআর জানিয়েছে, জ্বালানি, বিরল মৃত্তিকা খনিজ, কিছু ধাতু, গরুর মাংস, কফি, নির্দিষ্ট ফল ও সবজি, ওষুধ, জৈব রাসায়নিক পদার্থ এবং উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ নতুন শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে।

এদিকে বস্ত্র ও পোশাক খাতের জন্য একটি বিশেষ ‘টেক্সটাইল মেকানিজম’ চালুর প্রস্তাবও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আওতায় নির্দিষ্ট পরিমাণ পোশাক ও বস্ত্রপণ্য তুলনামূলক কম শুল্কে মার্কিন বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। তবে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত প্রস্তাবিত শুল্ক ও সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপ নিয়ে জনমত গ্রহণ করা হবে। এরপর ৭ জুলাই এ বিষয়ে একটি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি অস্থায়ীভাবে ১০ শতাংশ সর্বজনীন শুল্ক আরোপ করেছিল। তবে একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় আরোপিত সেই শুল্ক বাতিল করে দেয়। নতুন প্রস্তাবকে সেই শুল্কনীতির পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

আরও পরুন: