যুক্তরাষ্ট্রের নৌসচিব জন ফেলানের নাটকীয় বিদায়: স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন হাং কাও
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা ও নৌসচিব জন ফেলান পদত্যাগ করেছেন। তবে একে সাধারণ পদত্যাগ হিসেবে না দেখে বরং ‘বরখাস্ত’ হিসেবেই বিবেচনা করছে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো। বুধবার (২২ এপ্রিল) মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন তার এই আকস্মিক প্রস্থানের খবর নিশ্চিত করেছে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল এক বিবৃতিতে জানান, ফেলান তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসন ছাড়ছেন। তার জায়গায় বর্তমানে নৌবাহিনীর আন্ডারসেক্রেটারি বা উপসচিব হিসেবে কর্মরত হাং কাও ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব নেবেন।
কেন এই নাটকীয় পরিবর্তন?
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, জন ফেলানের সাথে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পেন্টাগনের অন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সম্পর্ক সম্প্রতি চরম তিক্ততায় পৌঁছেছিল। ফেলানকে সরিয়ে দেয়ার পেছনে মূলত তিনটি বড় কারণ উঠে এসেছে:
-
রাজনৈতিক অবস্থান: সিনেটর মার্ক কেলি সেনাদের ‘অবৈধ নির্দেশ না মানার’ পরামর্শ দিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, এই ঘটনার প্রতিবাদে ফেলান যথেষ্ট কঠোর অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছেন, যা হেগসেথকে ক্ষুব্ধ করে।
-
নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব: হেগসেথের ডেপুটি স্টিফেন ফিনবার্গের সঙ্গেও ফেলানের তীব্র মতবিরোধ ছিল। বিশেষ করে মার্কিন নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ নির্মাণ প্রকল্পগুলোর ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব চলছিল।
-
উপযুক্ততা: পেন্টাগনের একটি বড় অংশ মনে করে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জন ফেলানের চেয়ে হাং কাও এই পদের জন্য অনেক বেশি যোগ্য এবং দক্ষ।
পরিস্থিতির গুরুত্ব
আল জাজিরার সাংবাদিক অ্যালান ফিশার এই পরিবর্তনকে ‘নাটকীয়’ বলে বর্ণনা করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর ব্যাপক সক্রিয়তার এই সন্ধিক্ষণে এমন শীর্ষস্থানীয় রদবদল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও বড় অভিযানগুলোর কৌশলগত সিদ্ধান্ত ‘সেন্টকম’ এবং ‘জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ’ গ্রহণ করে, তবুও ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ অবরোধ নীতির বাস্তবায়নে এই পরিবর্তন নৌবাহিনীর অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।





































