সোমবার , ০১ ডিসেম্বর ২০২৫
Monday , 01 December 2025
০৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৭

ডেস্ক নিউজ

প্রকাশিত: ১৮:১৯, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

পাকিস্তান অর্থনীতির ডুবন্ত নৌকায় সওয়ারি হতে চায় বাংলাদেশ

পাকিস্তান অর্থনীতির ডুবন্ত নৌকায় সওয়ারি হতে চায় বাংলাদেশ

একাত্তরের পাকিস্তানি বর্বরতা ভুলে এখন তাঁদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে মরিয়া বাংলাদেশ। ইসলামাবাদ একাত্তরের বদলা নিতে চাইলেও পাকিস্তানি জেনারেলকে লাল কার্পেটে স্বাগত জানানো হচ্ছে পরিবর্তিত বাংলাদেশে। আর্থিক ভাবে দেউলিয়া পাকিস্তানের সঙ্গে দোস্তি করে নিজেদের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করার কথা বলছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধী অন্তর্বর্তী সরকার। তাই দুই দশক পর ফের ঢাকায় বসেছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে নবম যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন (জেইসি)-এর বৈঠকপররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক চাই’ পাকিস্তানি সেনার ‘জয়েন্ট চিফ্‌স অফ স্টাফ কমিটি’র চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জ়া বলেছেন, ‘কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকা এবং করাচির বিমান যোগাযোগও চালু হয়ে যাবে’ তাঁকে ড. ইউনূস উপহার দিয়েছেন ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের আট রাজ্য-সহ বাংলাদেশের মানচিত্র। তাই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার নেশায় ভারতের মতো প্রতিবেশী এবং প্রকৃত বন্ধু রাষ্ট্রকে শত্রু বানাচ্ছেন ড. ইউনূস।

গত বছর প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনা বিদায় নেয়ার পর থেকেই ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে ‘ফিল গুড’ সম্পর্ক হলেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীরা উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন। কারণ একাত্তরে ৩০ লক্ষ বাঙালি শহিদ হয়েছিলেন খান সেনাদের হাতে। ধর্ষিতা হয়েছিল ৩ লক্ষ বীরাঙ্গনা। সেই অপরাধের জন্য সম্প্রতি জামায়াতের মতো দল জাতির কাছে ক্ষমা চাইলেও পাকিস্তান এখনও ক্ষমা চায়নি। তবু অন্তর্বর্তী সরকারের পাকিস্তান-প্রীতি বেড়েই চলেছে। বিএনপি-সহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকলকেই বিষয়টি উদ্বেগে রাখছে।

সোমবার, ২৭ অক্টোবর ঢাকায়  শুরু হল জেইসি-র নবম বৈঠক। বৈঠকে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে আছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং ১৪ সদস্যের পাকিস্তানি দলের নেতৃত্বে আছেন পেট্রোলিয়াম বিষয়ক মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিকবৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ সুরক্ষা, কৃষি, ব্যাংকিং, আর্থিক সেবা, জ্বালানি সহযোগিতা এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর আগে ২০০৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের সঙ্গে জেইসি বৈঠকে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ ২০ বছর পরে এই বৈঠক হলেও বৈঠকের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বিগত সরকারের আমলে, ২০১২ থেকে ২০২২ পর্যন্ত দশ বছরে বাংলাদেশ সফর করেছেন কেবল পাকিস্তানের একজন প্রতিমন্ত্রীআর ড. ইউনূসের ১৪ মাসের শাসনামলে ঢাকায় এসেছেন দেশটির উপ প্রধানমন্ত্রী-সহ মন্ত্রিসভার অন্তত ৫ সদস্য। সকলেই চট্টগ্রাম ও করাচির মধ্যে জাহাজ চালানো নিয়ে বাড়তি উৎসাহ দেখিয়েছেন। বাংলাদেশ সরকারও সম্মত হয়েছে। জাহাজ চলছেওকিন্তু এর কোনও ইতিবাচক প্রভাবই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পড়েনি। তাই করাচি থেকে জাহাজ এলেও বাংলাদেশের জিনিষের দাম বিন্দুমাত্র কমেনি।  বরং বেড়েই চলেছে দ্রব্যমূল্য। সঙ্গে বাড়ছে অস্ত্রের ঝলকানি।

কিন্তু একবারও পাকিস্তানি জেনারেল একাত্তর নিয়ে ক্ষমা চাননি। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর আগ্রহ শুধু ইসলামাবাদ-ঢাকা বিমান চালচল নিয়েই দেখা গিয়েছে বেশিইদানিং পাকিস্তানি সেনাদের ঢাকা সফর এবং বাংলাদেশি সেনাদের ইসলামাবাদ সফর বেড়ে যাওয়ায় দেশের  স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন বলে মনে করেন অনেকেই। বিশেষ করে বাংলাদেশি মৌলবাদীদের সঙ্গে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের যোগসাজস বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। অবসরপ্রাপ্ত অফিসারদের মধ্যে কর্নেল আবদুল হক, গোলাম আজমের ছেলে আবদুল্লাহিল আমান আযমীর সঙ্গে পাকিস্তান সেনার বাড়তি সখ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে

বাংলাদেশের বাঙালিরা পাকিস্তানের উর্দু সংস্কৃতিকে মোটেই পছন্দ করেন না। বাহান্নর ভাষা আন্দোলন কিছুতেই ভুলতে পারে না বাঙালি জাতিতাই পাকিস্তানি শিল্পীদের উড়িয়ে আনা হলেও বাংলাদেশিদের মন জয়ে তাঁরা ব্যর্থ। তবু চেষ্টা চলছে পাকিস্তানিদের সঙ্গে বাংলাদেশের আত্মিক বন্ধন তৈরির। ড. ইউনূসরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে লাভ কিছু হচ্ছে না। তেল আর পানি মিশতে পারে না কিছুতেই। বরং ক্ষতি হচ্ছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন শান্তির। তাই অবিলম্বে পাকিস্তানকে নিয়ে পরীক্ষা বন্ধ রেখে দেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব, উন্নয়ন ও অখন্ডতা রক্ষার স্বার্থে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিও বাড়ছে।

নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা দেশবাসীর উদ্বেগ বাড়িয়ে চলেছে। জিনিষের দাম আকাশছোঁয়া। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ। বিমানবন্দরও এখন সুরক্ষিত নয়। কর্মসংস্থানের সুযোগ দ্রতগতিতে কমতে থাকায় অপরাধ প্রবণতাও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের জন্য বাংলাদেশের দরোজা হাট করে খুলে দেওয়া দেশের জন্য বিপজ্জনক, এমন ধারনা বিএনপি নেতাদেরও। প্রকাশ্যে না বললেও পাকিস্তান নিয়ে এনসিপির মধ্যেও বিরোধ রয়েছে। এমনকী, জামায়াতের মধ্যেও দলের অতীত নিয়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিরোধ বাড়ছে। বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের সঙ্গেও জামায়াতের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের গিয়ে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছেন। এমন পরিস্থিতি ড. ইউনূস পাকিস্তানকে দিয়ে নতুন কোনও সমস্যা দেশবাসীকে উপহার দেন কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়