সোমবার , ০১ ডিসেম্বর ২০২৫
Monday , 01 December 2025
০৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৭

ডেস্ক নিউজ

প্রকাশিত: ১৯:২৭, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

নজরে সিঁদুরে মেঘ! নির্বাচন পরবর্তী সমঝোতার রাস্তা খোলা রাখছে জামায়াত

নজরে সিঁদুরে মেঘ! নির্বাচন পরবর্তী সমঝোতার রাস্তা খোলা রাখছে জামায়াত

বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে পরাজয়ের গন্ধ পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী। তাই তারা এখন নির্বাচন পরবর্তী সমঝোতা করার রাস্তা প্রশস্ত করার চেষ্টা করছে। জামায়াতের আমির ডা. আমির শফিকুর রহমান নিজেই সম্প্রতি চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা কনভেনশনাল (প্রচলিত) কোনো জোট করব না। কিন্তু অনেকগুলো দল শক্তির সঙ্গে আমাদের নির্বাচনী সমঝোতা হবে।তার এই জোট জোট না করেনির্বাচনী সমঝোতারকথায় ফুটে উঠেছে নির্বাচন জয়লাভ করা নিয়ে জামায়াত-সহ আট দলের আশঙ্কার ছবি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াত নির্বাচন নিয়ে এখনই সিঁদুরে মেঘ দেখতে পাচ্ছে। তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপিকে এখন থেকেই রীতিমতো ভয় পেতে শুরু করেছেন তারা। ভোট পরবর্তীতে নিজেদের অস্তীত্ব টিকিয়ে রাখতেই বিকল্প পথের সন্ধান খুঁজছে জামায়াত।

জামায়াত চাইছে আট দলের সঙ্গে জোট করার পাশপাশি অন্যদের সঙ্গেও নির্বাচন পরবর্তী সমঝোতার পথ খোলা রাখতে। তাই সমমনা দলগুলোর সঙ্গে লিয়াজোঁ রাখার ভার দেওয়া হয়েছে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদকে। তিনি নির্বাচন পরবর্তীতে বিএনপিকে রুখতে বিভিন্ন দলের সঙ্গে এখন থেকেই আলোচনা শুরু করে দিয়েছেন। এর থেকেই ধারনা করা হচ্ছে মুখে যাই বলুক না কেন, জামায়াতের জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসে মারাত্মক টোল খেয়েছে।

তাদের চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) গণ অধিকার পরিষদ আলাদা জোট প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। জামায়াত এই তিন দলকেই পাশে চাইলেও ভোটের আগে সেটা হচ্ছে না। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা করেছেন, এনসিপি কোনো ধরনের ক্ষমতার জন্য, আসনের জন্য কারও সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা করবে না। তার এই ঘোষণার পরেও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় আলোচনা শুরু করেছে এবি পার্টি এনসিপি। শিগগিরই তারা তৃতীয় ধারার নতুন রাজনৈতিক জোটের ঘোষণাও দিতে পারেন। জামায়াতের সঙ্গে জোট করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতেই নাহিদ এমন মন্তব্য করেছিলেন।

তাই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, দেশের মানুষ এখন ইসলামের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছেন। তার কথায়, ‘তাদের (দেশবাসীর) মধ্যে মানসিক ব্যাপক পরিবর্তন আসছে।মৌলবাদীদের দিয়ে এধরনের কথা বলানোর পাশাপাশি জামায়াত নেতারা এখন মুসলিম নারীদের মন জয়েও মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। নারীদের পোশাক নিয়ে জামায়াতের উদ্দেশেভয় দেখানো হয়বলে মঙ্গলবার মন্তব্য করেছেন দলটির ডা. আমির শফিকুর রহমান। তাঁর আশা, ‘কল্যাণ রাষ্ট্রের সৌন্দর্য উপলব্ধি করে নারীরা নিজেরাই শালীন পোশাক পরবেন নারীদের উদ্দেশে একগুচ্ছ কর্মপরিকল্পনার কথাও বলেছেন তিনি। বিএনপিকে রুখতে নারীদের ভোট নিজেদের বাক্সে আনার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। মৌলবাদীদের একজোট করার প্রক্রিয়াও চলছে সমানতালে। তবু নির্বাচনে পরাজয়ের ভয় তাদের পিছু ছাড়ছে না।

এরই মধ্যে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন চট্টগ্রামের জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী। সম্প্রতি তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, ‘প্রশাসনকে আমরা বললে উঠবে, বসবে, মামলা দেবে এই নিয়ে বিতর্ক শুরু হতেই তিনি আরও একধাপ এগিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করেন,  ‘এক বছর কাজ করার জন্য . ইউনূস ঘোষণা করেছেন শাহজাহান চৌধুরী গার্ডিয়ান অব চিটাগাং।এতে বিতর্ক তৈরি হতেই জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) করেছে জামায়াতে ইসলামী। আসলে তারা এখন বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চাইছেন। কিন্তু বিতর্ক থামছে না।

বিএনপির প্রথম থেকেই অভিযোগ ছিল, অন্তর্বর্তী সরকার জামায়াতের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে। বিভিন্ন সরকারি সিদ্ধান্তে জামায়াতের প্রভাব নিয়ে বিএনপি নেতারা সরব ছিলেন। সেইসঙ্গে তৃণমূলস্তরেও প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে জামায়াতের নেতারা বিএনপিকে কোনঠাসা করারও চেষ্টা করে। এনসিপিও বুঝতে পারে জামায়াত তাদেরকেও এখন কোনঠাসা করতে চাইছে। নিজেদের কার্যসিদ্ধির জন্যই এতোকাল তাদের ব্যবহার করেছে জামায়াত। আর ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা এনসিপি নেতারা দূরত্ব বাড়াতেই চিন্তার ভাঁজ বাড়তে থাকে জামায়াতের। তাই তারা চেষ্টা করেছিলেন তৃণমূল স্তরে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভোট নিজেদের দিকে টানতে। কিন্তু সেখানেও খুব একটা সফল হননি তারা। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কেউই জামায়াতকে ভোট দেবেন না। জামায়াত বুঝতে পেরেছে, কিছুতেই নৌকার ভোট দাঁড়িপাল্লায় পড়বে না। তাই এখন বিএনপির কাছে তাদের পরাজয় নিশ্চিত। নির্বাচন পরবর্তীতে বাংলাদেশে নিজেদের অস্তীত্ব ধরে রাখার স্বার্থেই জোটে প্রত্যাখাত হয়েও ভোটের পর ছোট ছোট দলের সঙ্গে সমঝোতার রাস্তা খোলা রাখার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন জামায়াত নেতারা।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

আরও পরুন: